জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ার্ডে চড়ে বেড়াচ্ছে গরু শেরপুর
আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:১৩ পিএম
গত কয়েক মাস ধরে নানা অব্যবস্থাপনা, অযত্ন আর অবহেলায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে। দায়িত্বশীলদের অদক্ষতা, চিকিৎসার মান থেকে শুরু করে নানা কার্যক্রম নিয়ে জেলাজুড়ে যখন তীব্র সমালোচনা, তখনই হাসপাতালটিতে ঘটলো এক তোলপাড় কাণ্ড। দেখা গেলো, হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের সামনে দিয়ে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েকটি গরু। যা ইতিমধ্যে সোশ্যালে ভাইরাল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালটিতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রায় ১৬ লাখ মানুষের জন্য ২০১৮ সালের দুই নভেম্বর সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে এখনও অনেক শূন্যপদে চিকিৎসক, নার্স নিয়োগ হয়নি।
স্থানীয় ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দালালদের দৌরাত্ম, বিকল যন্ত্রপাতি, মাদকসেবীদের আখড়া এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের ৫৮ পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৩০ জন। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০টির মধ্যে ৯টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট ১৩টির মধ্যে আটটি, অ্যানেসথেটিস্ট তিনটির মধ্যে একটি, রেজিস্টার ৯টির মধ্যে পাঁচটি পদ এখনও শূন্য। নার্সের ৮৭টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৯টি।
সেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তসৈনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল-আমিন রাজু বলেন, জেলার মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল হওয়ার কথা ছিল এই হাসপাতালটি। কিন্তু তা না হয়ে ভোগান্তির আরেক নামে পরিণত হয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের সেবার মান উন্নত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
সেচ্ছাসেবী সংগঠন আজকের তারুণ্যের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রবিউল ইসলাম রতন বলেন, দায়িত্বহীনতার অভাবেই জেলা হাসপাতালের এই করুণ অবস্থা। তত্ত্বাবধায়ক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এ অবস্থায় যেতো না। আমরা হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কাজ করে আসছি। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ইচ্ছাই নেই ভালো কিছু করার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালে গরু পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব আমার না। এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি। পরে তার বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা জানার পরই হাসপাতালে পরিদর্শন করেছি। গেটে দায়িত্বে থাকা আনসারদের অবহেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।