সিলেটের কুশিয়ারা নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে জকিগঞ্জ উপজেলার একাধিক গ্রামে হঠাৎ বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা— যেকোনো মুহূর্তে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাতে নদীর পানি আরও বেড়ে চলেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি বিপদসীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়। গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ আর ভারতের আসাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হঠাৎ করেই নদীর পানি বেড়ে গেছে।
রারাই, ছবড়িয়া, খলাছড়া, বারঠাকুরী সহ তীরবর্তী গ্রামগুলো এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, মাঠে থাকা হাজার হাজার একর আমন ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পানি যদি আরও বাড়ে তবে ব্যাপক ফসলহানি ঘটবে।
রারাই গ্রামের কৃষক আব্দুল খালিক বলেন, “আমাদের সব আশা-ভরসা এই আমন ধানের ওপর। পানি ঢুকে পড়লে সারা বছরের সম্বল হারিয়ে ফেলতে হবে।”
এদিকে নদীর আগের ভাঙনগুলো এখনো স্থায়ীভাবে মেরামত না হওয়ায় বিভিন্ন স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ— স্থায়ী বাঁধ সংস্কার বা ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রায় প্রতি বছরই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি যদি আরও বেড়ে যায় তবে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের অতিবৃষ্টির পানি সুরমা-কুশিয়ারার মাধ্যমে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর পানি বেড়েছে। তবে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি কম হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।
এদিকে নদীতীরবর্তী মানুষদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সম্ভাব্য বন্যা শুধু ফসল নয়, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোরও ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। ফলে এলাকাবাসী দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।