ইঞ্জিনসংকটে যখন–তখন বন্ধ যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২০:৪৫
ফলো করুন
২৪ ঘন্টার খবর
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে চলাচলকারী আন্তনগর চট্টলা এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় বেলা সোয়া দুইটায়। কিন্তু গত ১৬ আগস্ট ট্রেনটি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। বিকল্প ইঞ্জিন কমলাপুর স্টেশনে ছিল না। এর মধ্যে কমলাপুর থেকে কনটেইনারবাহী একটি ট্রেন চট্টগ্রামের পথে যাচ্ছিল। নরসিংদী যাওয়ার পর মালবাহী ট্রেনটি থামিয়ে সেটির ইঞ্জিন ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে চট্টলা এক্সপ্রেস চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, চট্টলা এক্সপ্রেস পৌনে চার ঘণ্টা বিলম্বে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে যায়। ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিনই একাধিক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের চলাচল বাতিল করতে হচ্ছে। গত জুন মাসে শুধু রেলের পূর্বাঞ্চলে লোকাল, মেইল, কমিউটার ও মালবাহী মিলে ৪৩৫টি ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। এক হাজারের বেশি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালে পড়ে আছে। ইঞ্জিনের অভাবে এসব কনটেইনার পরিবহন করা যাচ্ছে না।
রেলওয়ে সূত্র বলছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করতে হবে। এতে যাত্রী আয় কমবে, বাড়বে ভোগান্তি।
এই সংকটের কারণে শুধু রেলের পূর্বাঞ্চলে মালামাল পরিবহন বাবদ এক বছরে আয় কমেছে ৫৫ কোটি টাকা। রেলওয়ে সূত্র বলছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাও বাতিল করতে হবে। এতে যাত্রী আয় কমবে, বাড়বে ভোগান্তি।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ইঞ্জিন কিনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন। কারণ, এ মুহূর্তে ইঞ্জিন কেনার নতুন কোনো প্রকল্প নেই। চট্টগ্রাম-দোহাজারী নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ৩০টি মিটারগেজ ইঞ্জিন কেনার কথা রয়েছে। তবে এ প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে। গত এক বছরে যন্ত্রাংশ ক্রয়ের দরপত্র সময়মতো সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে পুরোনো ইঞ্জিনের মেরামতও ঠিকঠাক হচ্ছে না।
দু-তিন মাস পর পর রেলের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে মাসিক পরিচালন পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। বৈঠকে সময় মেনে রেল চলাচল নিশ্চিত করা, রেলের আয় বৃদ্ধি, ইঞ্জিন ও কোচের প্রাপ্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মালবাহী ট্রেন। পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে
মালবাহী ট্রেন। পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনেফাইল ছবি: প্রথম আলো
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেলে বর্তমানে মিটারগেজ ইঞ্জিনের সংকট সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটে মিটারগেজ ট্রেন চলাচল করে। এর বাইরে মিটারগেজ ট্রেন চলে উত্তরবঙ্গের বগুড়া, নাটোর, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ আরও কিছু জেলায়। খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলে চলে ব্রডগেজ ট্রেন।
রেলের মাসিক পরিচালন সভায় আলোচনা হয়, কেন্দ্রীয় ইঞ্জিন কারখানা থেকে মেরামত করার পর অল্প দিনের মধ্যেই কিছু ইঞ্জিন আবার বিকল হয়ে যায়। রেলের মেকানিক্যাল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মেরামতের পর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে ঠিকঠাক যন্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। অথবা যে খরচ করা হয়েছে, তা অপচয় হয়েছে। তিন-চার বছরের মধ্যে কেনা ইঞ্জিনও বিকল হয়ে পড়ছে বলে জানান তিনি।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান প্রথম আলোকে বলেন, রেলে ইঞ্জিনের সংকট প্রকট। এ মুহূর্তে কেনার উদ্যোগ নিলেও ইঞ্জিন আসতে দুই বছর লাগবে। তাই পুরোনো ইঞ্জিন মেরামতে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে রেলের কর্মী ও কারখানার সক্ষমতায়ও ঘাটতি আছে।