নাটোরে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি, নতুন করে আক্রান্ত ১০৭ জন
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১২:২০
নাটোরে ডায়রিয়া পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ জন পুরুষ ও ১৯ জন নারী। এদিকে গণহারে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা পৌরসভার সরবরাহ করা দুর্গন্ধযুক্ত পানিকে দায়ী করেছেন। তবে জনস্বাস্থ্যের প্রতিবেদনে পানিতে জীবাণুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পৌর প্রশাসক।
মঙ্গলবার রাত থেকে শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউতলা ও আশপাশের এলাকা থেকে ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। প্রথম রাতেই ভর্তি হন অন্তত ৩৫ জন। বুধবার সকালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫তে। দুপুরের মধ্যে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪৭ জনে পৌঁছে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে দুই শতাধিক ছাড়িয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার হাসপাতালে কথা হয় ৪ বছর বয়সী ইয়াসিনের মা ফাতেমা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় ছেলের তীব্র পেটে ব্যথা শুরু হয়। রাতেই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসা চলছে। এখনও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ফাতেমা বেগম আরও জানান, ঝাউতলা মহল্লায় তাদের বাড়ি। এলাকার অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর ধারণা, পৌরসভার পানির কারণেই ইয়াসিনের ডায়রিয়া হয়েছে।
ঝাউতলার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান (৫৫) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পরিবারের ৭ সদস্যসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন তারা। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সবজি দিয়ে ভাত খেয়েছেন। বিকেল থেকেই পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবস্থা খারাপ হলে রাতেই সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। কী কারণে এমন হলো বুঝতে পারছেন না তিনি।
এদিকে বৃহস্পতিবারও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব নিয়ে হাসপাতালে রোগীর উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় মেঝে ও বারান্দাতেও সেবা নিতে হচ্ছে শতাধিক রোগীকে। ডায়রিয়ার প্রকোপের কারণ জানতে হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) রবিউল আউয়ালকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. মুক্তাদির আরেফিন বলেন, ‘রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। আক্রান্তদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ডায়রিয়ার কারণ অনুসন্ধানে উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র থেকে একটি প্রতিনিধি দল নাটোরে আসার কথা রয়েছে। তাছাড়াও আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করছে।
পৌর প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, পানির নমুনা বগুড়ার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রিপোর্ট পেয়েছি। সেখানে পানিতে কোনো জীবাণু পাওয়া যায়নি। ঢাকা থেকে আইসিডিডিআরবি’র লোকজনের আসার কথা রয়েছে। তারা এলে সমস্যা শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।